’কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।গতকাল বুধবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটি উদ্বোধন করেন। রংপুর ও কুড়িগ্রামের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সেই দাবি বাস্তবায়ন করছেন।আজ থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি কিন্তু ঘটে গেছে নতুন বিপত্তি।উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরেই এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা হয়েছে। বাথরুমের বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়েছে এবং আসনও নষ্ট করা হয়েছে!
ইন্দোনেশিয়া থেকে সদ্য আমদানিকৃত লাল-সবুজ পিটি ইনকা মিটারগেজ কোচ দেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসকে। একইদিনে উত্তরবঙ্গের আরও দুটি ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস এবং রংপুর এক্সপ্রেসের রেক পরিবর্তন করে ব্র্যান্ড নিউ লাল-সবুজ কোচ দেওয়া হয়েছে। অন্য দুটি ট্রেনে সব ঠিকঠাক থাকলেও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস যেন লণ্ডভণ্ড! সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে এসব দৃশ্য।

উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের বেশ কয়েকটি কোচের বাথরুম থেকে উধাও হয়ে গেছে পানির ট্যাপ, টিস্যু হোল্ডার, টাওয়েল হোল্ডার এমনকী বদনা পর্যন্ত উধাও! শুধু তাই নয়; কোনো ধাঁরালো বস্তু দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে বেশকিছু আসন! ট্রেনটির বাইরে এবং ভিতরের বেশ কিছু লাইট চুরি হয়ে গেছে। উদ্বোধনের আগের দিন ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে রাখা ছিল।

এই চুরির ঘটনা নিয়ে রেলওয়ে খোঁজ-খবর করছে বলে জানা গেছে। এদিকে নতুন ট্রেনটির এই অবস্থা হওয়ায় রেলপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দেশের সম্পদ যদি দেশের মানুষ ধ্বংস করে- এর চেয়ে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না। অনেকেই এটাকে বাস মালিক-চালকদের পরিকল্পিত কাজ হিসেবে দাবি করছেন। কারণ ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে প্রচুর বিলাসবহুল বাস রয়েছে। আবার অনেকেই স্থানীয়দের দায়ী করছেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের জন্য।

প্রসঙ্গত,নতুন ট্রেনটির প্রতিদিন কুড়িগ্রাম থেকে সকাল ৭ টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাবার কথা। রংপুর ও পার্বতীপুর হয়ে ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছবে প্রতিদিন বিকাল ৫ টা ২৫ মিনিটে। যাত্রাপথে রংপুর, বদরগঞ্জ, পার্বতীপুর, জয়পুরহাট, শান্তাহার ও মাধনগর স্টপেজ রাখা হয়েছে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাত ৮ টা ৪৫ মিনিটে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিবে। এতে ৬৩৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এর সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে বুধবার।