বাংলাদেশে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের শুরু থেকেই আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে অবৈধভাবে ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার অভিযোগে মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিলো কিছুদিন আগেই। গত কিছুদিন আগে তার রিম্যান্ডের শুনানীতে ২০ দিনের রিম্যান্ডের মধ্যে ১০ দিনে রিম্যান্ড আবেদন আমলে নিয়ে ১০ দিনের রিম্যান্ড দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালাত। এ দিকে গ্রেফতার হবার পর থেকে একের পর এক তথ্য বের হচ্ছে সম্রাটের নামে।সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তেমন কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই অকপটে সব বলে দিচ্ছেন। সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট এরই মধ্যে চারজন গডফাদারের নাম বলেছেন। যেসব গডফাদারের নাম বলেছেন, তাদের নাম যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমও বলেছেন। সূত্রে জানা গেছে, সম্রাটকে ’গডফাদারদের’ মুখোমুখি করা হতে পারে। রিমান্ডে থাকা সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে যাদের (গডফাদার) নাম বলেছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া শুরু করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। অকাট্য প্রমাণ পেলে শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় এনে সম্রাটের মুখোমুখি করা হবে।

এছাড়া গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিদেশে অর্থপাচারের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছেন। এগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রমাণ সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দারা। প্রমাণ পেলেই তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে। রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলায় মঙ্গলবার সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন।


বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্রাট গোয়েন্দাদের বলেছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর সম্রাটের ধারণা ছিল তিনি সব ’ম্যানেজ’ করতে পারবেন। এ বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাসও ছিল। কারণ তার কাছ থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ নিতেন। ঢাকায় দলীয় কোনো কর্মসূচি থাকলে সম্রাট সেখানে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতেন। এ কারণে তিনি ভেবেছিলেন তাকে হয়তো গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত তিনি পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।


প্রসঙ্গত, সম্রাটের সম্পদের পরিনামন কত তা নিয়ে সংস্বয় রয়েছে খোদ তার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলিগেরই। চাদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমান সম্পত্তির মালিক বেন গেছেন তিনি।শুধু দেশেই নয় বিদেশেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। মালয়শিয়ার মত জায়গায় তিনি গড়তে চেয়েছিলেন সেকেন্ডহোম। সেই লক্ষ্যে মালেয়শিয়া টাকা পাঠিয়েছেন তিনি।