বাংলাদেশে বিপুল পরিমান গ্যাস মজুদ আছে বলা হয়ে থাকে গ্যাসের দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে এই গ্যাসেরই এখন সংকটে বাংলাদেশ।রাজধানীর প্রায় সকল জায়গায় দেয়া হয়ে থাকে গ্যাস সংযোগ পাইপের মাধ্যমে। এর ফলে বিপুল পরিমান অবৈধ গ্যাসের সংযোগ যায় সারা দেশে। যার জন্য সরকার হারায় কোটি টাকার রাজস্ব। কিন্তু সেই পদ্ধতি এখন আর কাজে লাগবে না জানানো হয়েছে সরকার থেকে। শেষ হয়ে যাচ্ছে গ্যাস সংযোগের দিন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন এর ইঙ্গিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "গ্যাস সংযোগের দিন শেষ"। তিনি বলেছেন, ’নতুন বাড়ি-ঘর করবে, কিন্তু গ্যাস সংযোগের জন্য বসে আছে, ইটস নট রাইট (এটা ঠিক নয়)। গ্যাস সংযোগ আপনারা আগামীতে পাবেন না, এটা ধরে নেন। আমরা সিলিন্ডারে যাচ্ছি, এখান থেকে আর বোধহয় ফেরার পথ নেই। আমরা সিলিন্ডারে যাবই যাব। সুতরাং সিলিন্ডার ব্যবহারে যাতে লোকজন উৎসাহী হয়, এটা আমাদের দেখতে হবে।’


সরকারি বাসভবনবরাদ্দ পাওয়ার পরও কেউ বাসায় না উঠলে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে তার বরাদ্দই বাতিল করে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি কেউ বাসায় এলটমেন্ট পেয়ে না ওঠেন, - একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে তার বরাদ্দই আমরা বাতিল করে দেব।’

নতুন সরকারি ভবন নির্মাণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’সব সরকারি ভবন যত হবে, তাতে নেট বা মশারি দিতে হবে। এটা নতুন আইডিয়া। ডেঙ্গু ও অন্য সবকিছুর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য এটা করতে হবে।’

’এখন থেকে যত ঘর হবে, নিচতলায় গাড়ি চালক ও তাদের সহায়কদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যেমন টয়লেট, বসা, খাওয়া, গল্প করা, নামাজের ব্যবস্থা – এসব সুযোগ-সুবিধার জন্য জায়গা রাখতে হবে।’ সব সরকারি বাসভবনের নিচে এ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।


সরকার যেসব ফ্ল্যাট বানাচ্ছে, সেগুলোয় ময়লা ডিসপোজের জন্য আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও ইউজফুল ডিসপোজাল সিস্টেম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, ’এমআরটি কোম্পানি (ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির বা ডিএমটিসিএল) হয়তো কোনো এক সময় শক্তিশালী হবে এবং শেয়ারবাজারেও এটি তালিকাভুক্ত হবে। ধানমন্ডিসহ আশপাশ এলাকার জন্যও কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’


প্রসঙ্গত, আজ মঙ্গলবার মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০১৯-২০২০ এর সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে যানা যায়। এ ছাড়াও এই একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি মেট্রোরেলের লাইন নির্মাণের প্রকল্প (মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি) অনুমোদন দেন। এই দুটির মধ্যে একটি থাকবে রাজধানির হাতিরঝিলের পাশ দিয়ে যাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন হাতিরঝিলের সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়।